বাংলাদেশে পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া: সহজ ধাপসমূহ

 বাংলাদেশে পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া: সহজ ধাপসমূহ

বাংলাদেশে পাসপোর্ট করা আজকাল অনেক সহজ হয়ে গেছে। ডিজিটাল পদ্ধতির কারণে আবেদনকারীরা এখন ঘরে বসেই আবেদন করতে পারেন। তবে, কিছু ধাপ মেনে চলা দরকার। এই প্রক্রিয়াটি কিভাবে সম্পন্ন করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:

১. অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ

বাংলাদেশে পাসপোর্ট করার প্রথম ধাপ হলো অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করা। এর জন্য আপনি পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.passport.gov.bd) এ যেতে হবে। সেখান থেকে "New Application (New Passport)" অপশনে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে। ফরমে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, পিতামাতার তথ্য, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি সঠিকভাবে দিতে হবে।

২. আবেদন ফি প্রদান

অনলাইন ফরম পূরণের পর আবেদন ফি দিতে হবে। ফি দিতে পারেন ব্যাংকের মাধ্যমে অথবা অনলাইন মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট) ব্যবহার করে। সাধারণত, ফি নির্ভর করে পাসপোর্টের ধরন ও কতদিনের মধ্যে পাসপোর্ট পেতে চান তার ওপর। সাধারণ সময়ে পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য ফি ৩,৪৫০ টাকা এবং জরুরি ভিত্তিতে চাইলে ৬,৯০০ টাকা দিতে হয়।

৩. বায়োমেট্রিক এবং ছবি তোলা

অনলাইনে আবেদন এবং ফি প্রদানের পর আপনাকে বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ) ও ছবি তোলার জন্য পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে। আবেদন ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। এসব নথিপত্রের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র, পূর্ববর্তী পাসপোর্ট (যদি থাকে), এবং ছবি থাকা দরকার।

৪. পুলিশ ভেরিফিকেশন

পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হলে, পুলিশ আপনার ঠিকানা ভেরিফিকেশন করতে আসবে। ভেরিফিকেশন সফল হলে, আপনার আবেদন পাসপোর্ট অফিসে প্রক্রিয়াকরণের জন্য চলে যাবে।

৫. পাসপোর্ট সংগ্রহ

সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পাসপোর্ট প্রস্তুত হবে এবং আপনি নির্ধারিত সময়ে এটি সংগ্রহ করতে পারবেন। সাধারণত, সাধারণ পাসপোর্ট ২১ কার্যদিবসের মধ্যে প্রস্তুত হয়, আর জরুরি পাসপোর্ট ৭ কার্যদিবসের মধ্যে সংগ্রহ করা যায়। পাসপোর্ট সংগ্রহ করার সময় আপনাকে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে পরিচয়পত্র ও রশিদ জমা দিতে হবে।

প্রয়োজনীয় কিছু টিপস:

  • আবেদন করার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নিন।
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে সব তথ্য মিলে যাচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করুন।
  • পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় যদি কোনো ভুল তথ্য দেওয়া হয়, তাহলে পরবর্তীতে তা সংশোধন করতে সমস্যা হতে পারে।

বাংলাদেশে পাসপোর্ট করার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হয়। এগুলো সঠিকভাবে জমা না দিলে আবেদন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে। নিচে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের তালিকা দেওয়া হলো:


১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ

  • প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য: জাতীয় পরিচয়পত্র।
  • ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য: জন্ম নিবন্ধন সনদ।

২. ফি প্রদানের রশিদ

  • পাসপোর্ট আবেদন ফি ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট) এর মাধ্যমে প্রদান করলে সেই রশিদ জমা দিতে হবে।

৩. অনলাইন আবেদন ফরম

  • অনলাইনে আবেদন করার পর পূরণ করা ফরমটির একটি প্রিন্ট কপি জমা দিতে হবে।

৪. পুরোনো পাসপোর্ট (যদি থাকে)

  • যদি পূর্বে পাসপোর্ট থাকে, তবে সেটির ফটোকপি জমা দিতে হবে।

৫. ছবি

  • আবেদনকালে পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক ছবি তোলা হবে। তবে জরুরি কোনো কারণে অফিসে গেলে পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি ছবি রাখতে পারেন (বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়ায় ছবি তোলা হলেও)।

৬. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স (যদি প্রয়োজন হয়)

  • কখনো কখনো পাসপোর্ট অফিস আবেদনকারীর ঠিকানা ভেরিফিকেশনের জন্য পুলিশের কাছ থেকে একটি ক্লিয়ারেন্স চেয়ে থাকে।

৭. পিতামাতার জাতীয় পরিচয়পত্র

  • যারা ১৮ বছরের নিচে, তাদের ক্ষেত্রে পিতামাতা বা অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হবে।

৮. ঠিকানার প্রমাণ

  • আপনার স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে কোনো বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা করতে হতে পারে।

এই নথিগুলো সঠিকভাবে জমা দিলে পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়া সহজ এবং দ্রুত হবে।

Comments

Popular posts from this blog

What are some different names for “mission statement,” and where will you likely find a firm’s mission statement?

summary of controlling process

Advantages of motivation in management